দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট বাজারের পালপাড়ায় মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। দিন-রাত এক করে প্রতিমার খড় ও মাটির কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন কারিগরেরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রতিমা তৈরির স্থানগুলোর নিরাপত্তায় হটলাইন চালুসহ বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
সরেজমিনে ভদ্রঘাট পালপাড়া ঘুরে দেখা যায়, মৃৎশিল্পীদের ঘরে ঘরে চলছে প্রতিমা তৈরির মহোৎসব। স্থানীয় কারিগরদের পাশাপাশি কাজের চাপ সামাল দিতে বগুড়া, পাবনা, রংপুর ও নাটোর জেলা থেকেও দক্ষ কারিগরেরা এখানে এসে দিন রাত কাজ করছেন। কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের অবয়ব।
মৃৎশিল্পীরা জানান, পূজার প্রায় ২০ দিন আগে থেকেই শুরু হবে রং-তুলির সুক্ষ্ম কারুকাজ।
পালপাড়ার কারিগরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২১৬টি প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। আকার, গঠনশৈলী ও কারুকার্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি প্রতিমার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব প্রতিমা সরবরাহ করা হবে টাঙ্গাইল, নাটোর, বগুড়া ও পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে। তবে প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কারিগরেরা।
তাঁদের দাবি, বিগত বছরগুলোর তুলনায় উৎপাদন খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা জানান, ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া একটি প্রতিমা তৈরিতেই বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে কঠোর পরিশ্রমের পরও লাভের অঙ্ক নেমে এসেছে মাত্র ৩০ শতাংশে।
কারিগর বলরাম পাল বলেন, একেকটি প্রতিমার নকশা ও দাম একেক রকম। আমাদের এলাকায় এবার ২১৬টি প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। প্রতিমার দামের ভিন্নতা থাকায় বিক্রি পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মোট কত টাকার ব্যবসা হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে উপকরণের দাম বাড়ায় এবার লাভের মার্জিন অনেকটাই কম।
এদিকে প্রতিমা তৈরির স্থান ও কারিগরদের সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করতে রবিবার সন্ধ্যায় ভদ্রঘাটের পালপাড়া পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।
পরিদর্শনকালে তিনি কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কাজের অগ্রগতি ও স্থানীয় পরিবেশের খোঁজখবর নেন।
পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে একটি জরুরি হটলাইন নম্বর চালুর নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে কামারখন্দ থানা-পুলিশকে প্রতিমা তৈরির স্থানসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার কঠোর নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শম্ভু নাথ দাশ,বিএনপির নেতা আব্দুল আলিম খান, মির্জা আব্দুস সামাদ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী জানান, ভদ্রঘাটের পালপাড়ায় সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য পুলিশের বিশেষ টহল দল নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রাম পুলিশও পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবে। উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারিগর ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সজাগ থাকবে।
কে